যে জার্সির জন্য দুই যুগ ধরে মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই পর্তুগাল দলেই এখন অনিশ্চিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ। অনুমতি ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করায় তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ থাকবেন। ফেডারেশন বিষয়টিকে "জরুরি" হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে। সেদিন রোনালদোকে বদলি হিসেবে ওয়ার্মআপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এরপর ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি জানতে পারেন, সেই ম্যাচেও একাদশে তাঁর জায়গা হচ্ছে না। তখনই কোপেনহেগেনে দলের ঘাঁটি ছেড়ে চলে যান পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন এরপর প্রকাশ্যে আসে। প্রায় দুই হাজার শব্দের এক দীর্ঘ বিবৃতিতে রোনালদো অভিযোগ করেন, দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দেওয়া কথা কোচ দুইবার রাখেননি, যাকে তিনি "আস্থার লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ডেনমার্কের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর জেসুস দাবি করেন, রোনালদোর সঙ্গে তাঁর এমন কোনো সমঝোতা হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রোনালদোকে দলে ফেরাতে তিনি আগ্রহী।

তবে পুরো ঘটনায় নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন রোনালদো। গত মঙ্গলবার তিনি নরওয়ে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের রেখে চলে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চান। জানিয়ে দেন, ফেডারেশন যে শাস্তিই দিক, তিনি মেনে নেবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের গুঞ্জনও উড়িয়ে দেন তিনি; শাস্তি শেষে আবারও দেশের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন বলে জানান।

ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা বলেছেন, ফেডারেশন, কোচ, অধিনায়কসহ পুরো দলই চায় বিষয়টির নিষ্পত্তির পর রোনালদো ফিরে আসুক। তবে শাস্তির বিষয়টি পুরোপুরি স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটির হাতে বলে জানান তিনি। ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া জাতীয় দলের অনুশীলন, ম্যাচ বা কোনো কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিত থাকলে একজন খেলোয়াড়ের এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও হতে পারে।

মজার ব্যাপার হলো, রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে দুর্দান্ত ছন্দে আছে পর্তুগাল। নেশনস লিগে চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি। অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলে থেমে নেই রোনালদোও। পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পর আল নাসরের হয়ে প্রথম ম্যাচেই দিরিয়াহর বিপক্ষে গোল করে ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

দেশের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী এই কিংবদন্তির শাস্তি কতটা কঠোর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবলবিশ্ব।